Subscribe Us

এক পশলা পাহাড়ি বৃষ্টি (রামমনি হালদার)

লেখাটি বার পড়া হয়েছে
সাগরের দম্ভ অনেক,
ভুতলের নিম্নতম স্থান হয়েও তার অহংকার,
দম্ভের মূলে রয়েছে তার বিশাল আকার।
প্রতিনিয়ত সে জোয়ার ভাটায়,
জলকেলী করে বৃষ্টি কে কাঁদায়।
বারিরাশি তার ভয়েতে
আছড়ে পড়ে তটভূমিতে।
তাঁদের ক্রন্দন শেষে
দাম্ভিক সাগর অট্টহাস্য হাসে।

পাহাড় এর আছে দৃঢ়তা,
নেই অহংকার আছে শুধু উদারতা।
শান্ত নিশ্চুপ সে,
মনে মনে সে শুধু বৃষ্টিকে ভালোবাসে।

বৃষ্টিও নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে।

পাহাড়ের কাছে গিয়ে সে আনন্দে মেতে ওঠে,
পাহাড় এর নীরব কথা গুলো ভাষা পায় বৃষ্টির ঠোঁটে।

তবে সাগর ও হার মানতে নারাজ,
জোর করে হলেও সে বৃষ্টি কে বিয়ে করবে আজ।
বিয়েও হলো তাঁদের।
মধুচন্দ্রিমার রাতে জোয়ার এসেছে সাগরের বুকে,
সে পাহাড়কে হার মানিয়ে, পেয়েছে বৃষ্টিকে।
আর বৃষ্টিকে, বৃষ্টিকে বাধ্য হয়েই ওই দাম্ভিক 
সাগরের কাছে যেতে হবে ।

 কান্নায় ,যন্ত্রনায় , ক্ষোভে, বাধ্য হয়ে
 বৃষ্টি সাগরের কাছে গেল
 তবে,
 ঘূর্ণিঝড় হয়ে, 
 তুফান হয়ে ,
 সাইক্লোন হয়ে,
 
 সর্ব শক্তি দিয়ে যেন প্রতিবাদ করে বললো,
 আমি শুধু পাহাড় এর, শুধু পাহাড় এর।
 
কিন্তু আজও বৃষ্টি পাহাড়কে ভুলতে পারেনি,
পাহাড় ও ভোলেনি তাঁকে।
বৃষ্টি আজ ও পাহাড়ের কাছে যায়,
ঝিরিঝিরি শীতল বরফ হয়ে
তাকে টোপর পরিয়ে দেয়।
নদী হয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে।
খরস্রোতা হয়ে পাহাড়ের সামনে নাচে,
ঝরনা হয়ে পাহাড় কে গান শোনায়।

আর পাহাড় নিজেকে টুকরো করে
ভাসিয়ে দেয়  বৃষ্টির সাথে,
একে অপরের সাথে মিশে যায়,
অনন্ত কাল ধরে বয়ে চলে,
সাক্ষী রাখে তাদের সৃষ্টিকে,
সাক্ষী রাখে প্রাণী কুলকে,
সাক্ষী রাখে শস্য শ্যামলা পৃথিবীকে,
সাক্ষী রাখে নগরকে,
সাক্ষী রাখে সভ্যতাকে।

কিন্তু শেষে আবার তাঁকে
সমাজের সব কলঙ্ক , সব জঞ্জাল বুকে নিয়ে
প্রায় নিস্তেজ হয়ে
অনিচ্ছা সত্বেও মলিন হয়ে সাগরেই
বিলীন হতে হয়।।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ